শাহজাদপুরে যমুনার ভাঙ্গনে হুমকিতে জামে মসজিদ

0

এম এ হান্নান,শাহজাদপুর(সিরাজগঞ্জ)প্রতিনিধি : শাহজাদপুরের জালালপুর ইউনিয়নের পাঁচিল, চরুয়াপাঁচিল, ভেগা ও বাঐখোলা গ্রামে যমুনা নদীর ভাঙ্গন অব্যাহত থাকাবস্থায় নতুন শাখা নদী জামিরতা নদীতেও ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। আর এ ভাঙ্গনের কবলে পড়ে উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের চর জামিরতা (উত্তর) গ্রামের একটি বড় অংশ সহ হুমকিতে পড়েছে ওই গ্রামের একমাত্র জামে মসজিদটি।

সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, জামিরতা ও চর জামিরতা গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত জামিরতা নদীটিতে বর্ষার পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে শুরু হয়েছে প্রবল ভাঙ্গন। এ ভাঙ্গনের কবলে পড়া চর জামিরতা (উত্তর) গ্রামের একমাত্র জামে মসজিদটি যেখানে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া সহ এখানে পবিত্র জুম্মার নামাজও আদায় করেন মুসল্লীরা। এই মসজিদেই মাহে রমজানে নিয়মিত তারাবি নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখানে ৪ হাজার টাকা বেতনে একজন ইমাম এবং ২ হাজার টাকা বেতনে একজন মুয়াজ্জিন নিয়োগ দেয়া আছে।

প্রতিটি ওয়াক্ত নামাজে ৬০/৭০ জন মুসল্লী নিয়মিত নামাজ পড়েন। এমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ মসজিদ (যা গ্রামের একমাত্র মসজিদ) যদি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়, তাহলে ওই গ্রামের মুসলমানদের নামাজের জন্য অন্য কোন স্থান নাই । নদী ভাঙ্গনের বর্তমান যে অবস্থা তাতে যখন-তখন মসজিদটি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। ভাঙ্গন চলাবস্থায় বর্তমানে নদী ও মসজিদের দূরত্ব মাত্র কয়েক ফুট। ভাঙ্গনের গভীরতা প্রায় ২০ থেকে ৩০ ফুট। গ্রামবাসী নিজেদের উদ্যোগে বাসের ছট্কা গেঢ়ে এবং বালির বস্তা ফেলে ভাঙ্গন রোধের চেষ্টা করছে। কিন্তু, তাতে কোনই ফল আসছে না। সত্তরোর্ধ্ব বয়সী মুসল্লী আনছার আলী বলেন, ‘লোক মুখে শুনি বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও মন্দির উন্নয়নের জন্য সরকার ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বিভিন্ন অনুদান দেয়। কিন্তু, আমরা আমাদের এই ৬০/৭০ বছর বয়সের পুরাতন মসজিদটিতে কোনই অনুদান পাই নি।’ অপরদিকে, মসজিদ কমিটির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমাদের মসজিদের নিজস্ব ক্যাশ মাত্র ৭ হাজার টাকা। কিন্তু, গ্রাম এবং মসজিদটিকে ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য আমরা এরই মধ্যেই ভাঙ্গন ঠেকাতে বাঁশ, বালি, বালির বস্তা, খলপা, বাঁশের তারাই ইত্যাদি বাকিতে কিনে সেগুলো দিয়ে কাজ শুরু করেছি। যেগুলোর মূল্য সব মিলে ১ লাখ ২২ হাজার টাকা। গ্রামবাসীকে সাথে নিয়ে বাধ্য হয়েই এগুলো করছি।’ এদিকে জামিরতা নদীর ভাঙ্গনের হাত থেকে চর জামিরতা (জামিরতা চরপাড়া) গ্রাম ও গ্রামের জামে মসজিদটিকে রক্ষা করার জন্য এলাকাবাসী স্থানীয় এমপি, উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসক এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।