ভাঙ্গুড়ায় কাজ না করেই জলাশয় পুনঃখননের টাকা আত্মসাতের চেষ্টা!

0

ভাঙ্গুড়া প্রতিনিধি : পাবনার ভাঙ্গুড়ায় মৎস বিভাগের অধীন জলাশয় পুনঃখননের প্রায় ১০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, পাবনা জেলার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ২টি জলাশয় পুনঃখননের জন্য ৩০ লাখ ৩৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় মৎস্য বিভাগ।

ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমণিষা ইউনিয়নের রুপসী গ্রামের দুধসাগর জলাশয়ের জন্য ১০ লাখ ৩৮ হাজার ও পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের হাটগ্রাম গ্রামের চন্ডিপুর জলাশয়ের জন্য ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

চন্ডিপুর জলাশয়ের খনন কাজ কোনমতে করা হলেও দুধসাগর জলাশয়ে নামমাত্র কাজ দেখিয়ে প্রকল্প কমিটির লোকজন বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

একটি সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের সুফলভোগী এবং উপজেলা মৎস অফিসের আবেদনের প্রেক্ষিতে মৎস্য অধিদপ্তর ২টি জলাশয় পুনঃখননের জন্য ৩০ লাখ ৩৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়।

চারটি কিস্তিতে বরাদ্দের ওই অর্থ ছাড় করা হবে বলে জানায় স্থানীয় মৎস অফিস। চলতি মাসে প্রথম কিস্তির টাকা ছাড় করা হয়।

উভয় প্রকল্পের কমিটির চেয়ারম্যান ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার অষ্টমণিষা ইউনিয়নের রুপসী গ্রামের দুধসাগর প্রকল্পের ০.৬৫ হেক্টর আয়তনের জলাশয় পুনঃখননের কাজ শুরু হয় মে মাসের শেষ সপ্তাহে।

প্রথম চার দিন ৩২ ঘন্টা এস্কেভেটর মেশিন দিয়ে ও পরের ৫ দিনে সর্বমোট ১৫০ জন শ্রমিক দিয়ে কিছু কাজ করা হয়।

তবে খননের মাটি দেড় লক্ষাধিক টাকায় জলাশয়ের পাড়ে বসবাসকারী শাহিবুল ইসলাম, আলহাজ আলী ও হযরত আলী সহ কয়েকজন কেনেন বলে তারা জানান।

পরে পুকুরের তলায় বৃষ্টির পানি জমে মাটি কাঁদা হয়ে যায়। এরপর শ্যালো মেশিন লাগিয়েও আর খনন করা যায়নি।

ফলে জলাশয়টিতে ৬৭৫৭.৩৭ ঘন মিটার মাটি কাটার লক্ষমাত্রা থাকলেও তার ২৫ শতাংশ কাটাও সম্ভব হয়নি। কিন্তু কাজের শুরুতেই বরাদ্দের ২লাখ ৩১ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্প কমিটির চেয়ারম্যান ও স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা রহমত আলী সম্পুর্ণ কাজ না হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘উপর মহলের নির্দেশে কাজ করা হচ্ছে। এখানে তার কিছু করার নেই।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বর্তমান প্রকল্পের কমিটির একাধিক সদস্য এবং পূর্বের কমিটির সদস্য শাখাওয়াত আলী ও আক্কাস আলী অভিযোগ করে বলেন, প্রকল্প কমিটির চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সরকার দলীয় প্রভাবশালী লোকজন কোন কাজ না করেই বরাদ্দের সব টাকা তুলে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছে।

অপরদিকে চন্ডিপুর জলাশয়ের খনন কাজের অগ্রগতি নিয়ে এলাকাবাসী অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

কাজের অগ্রগতি নিয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন জানান, ‘চাটমোহর উপজেলার সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি টিম জলাশয় পরিদর্শন করে খনন কাজের পরিমাপ করেছেন।

পরে টিমের সুপারিশের ভিত্তিতে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বরাদ্দের অবশিষ্ট টাকার চেক প্রদান করবেন। তবে নির্দিষ্ট পরিমাণ কাজ না হওয়ায় মোটা অংকের টাকা ফেরত যাবে বলে তিনি জানান।’

এ বিষয়ে সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমানের সাথে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।

এঅবস্থায় এলাকাবাসী দুধসাগর জলাশয়টি পুনঃখননে বরাদ্দকৃত অর্থের সুষ্ঠ ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।