newspabna.com | বিশ্ব বাঙালির ২৪ ঘন্টা

তেষট্টিতম জন্মবার্ষিকীতে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনকে স্মরণ করছে দেশ।

রবীন্দ্রপরবর্তী বাংলা নাটকের অন্যতম দিশারী সেলিম আল দীন ১৯৪৯ সালের ১৮ অগাস্ট ফেনীর সেনেরখিলে জন্মগ্রহণ করেন। ২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি মারা যান তিনি।

সেলিম আল দীনের জন্মদিন উপলক্ষে ঢাকা থিয়েটার, বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার এবং নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগসহ বিভিন্ন সংগঠন সকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়।

ঈদের পর ২৫ থেকে ৩১ অগাস্ট অনুষ্ঠিত হবে ‘সেলিম আল দীন উৎসব’। সেলিম আল দীন ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর যৌথ আয়োজনে জাতীয় নাট্যশালা ও শিল্পকলা একাডেমীতে এই উৎসবে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের দুটি নাট্যদল অংশ নেবে।

এ ছাড়াও উয়ারী-বটেশ্বরে পাওয়া বাঙালির হাজার বছরের পুরনো সভ্যতার বিভিন্ন নিদর্শনও প্রদর্শনীর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে উৎসবে।

মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বাংলা নাটককে ঔপনিবেশিক ধ্যান-ধারণা থেকে মুক্ত করার ক্ষেত্রে যে কয়েকজন অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন, সেলিম আল দীন তাদের অন্যতম।

বাংলা নাটকে তিনি এক নতুনধারা সংযোজন করেছেন। বিশ্বসাহিত্যের ধ্র“পদী ধারায় শ্রমজীবী মানুষ এবং আবহমানকালের সংস্কৃতিকে সেলিম আল দীন তার নাটকে মহাকাব্যিক ব্যাপ্তি দিতে পেরেছিলেন।

বাঙালির হাজার বছরের নন্দনতত্ত্বের আলোয় বাংলা নাটকে সেলিম আল দীন এক নবতর শিল্পরীতির প্রবর্তন করেছেন, যাকে তিনি বলেছেন ‘দ্বৈতাদ্বৈতবাদী’ শিল্পরীতি।

সেলিম আল দীন বাংলাদেশে গ্র“প থিয়েটার আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ঢাকা থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের স্বপ্নদ্রষ্টা তিনি। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নাটক বিষয় হিসেবে পাঠ্য করার ক্ষেত্রে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

সেলিম আল দীনের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশে প্রথম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি ওই বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।

একাধিক ভাষায় অনূদিত সেলিম আল দীনের নাটক বিশ্বের বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্য। বাংলা নাটকে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে বাংলা একাডেমী পুরস্কার, একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার অর্জন করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.