খালেদার মুক্তি নাকি জাতীয় নির্বাচন? এ নিয়ে লন্ডনে তারেক-ফখরুল দ্বন্দ্ব

0

দলের ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনা ঠিক করতে ৭ জুন ব্যাংকক থেকে লন্ডনের পথে যাত্রা করেন মির্জা ফখরুল। লন্ডনে পৌঁছবার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত অনেক গোপনীয়তা বজায় রেখেছেন তিনি এ সফর প্রসঙ্গে।

লন্ডন বিএনপির সূত্রগুলো জানায়, দেশে ফোনালাপে আঁড়িপাতা ও সেসব আলাপচারিতা ফাঁস হয়ে যাওয়ায়, বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলার জন্য মির্জা ফখরুলকে লন্ডনে ডেকেছেন তারেক রহমান। এ জন্যে লন্ডনের কিংস্টন এলাকায় তারেকের ভাড়া করা নতুন বাসায় সস্ত্রীক অবস্থান করছেন ফখরুল। আর এখানেই নিজেদের প্রয়োজনীয় বৈঠক সারছেন মির্জা ফখরুল ও তারেক।

লন্ডন বিএনপির একাধিক নেতার কাছ থেকে জানা যায় যে, কিছু সিনিয়র নেতার উপস্থিতে দলের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলাপ করেন ফখরুল ও তারেক। দলের বর্তমান দুই ইস্যু তাদের আলোচনার মূল বিষয় ছিল, খালেদার মুক্তি এবং জাতীয় নির্বাচন। স্বাভাবিকভাবেই পরপর দুইবার ক্ষমতা থেকে দূরে থেকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বিএনপির জন্যে খুবই গুরুত্ব বহন করছে। কিন্তু এ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত ঘটিয়েছে খালেদা জিয়ার কারাবরণ। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে খালেদার স্বাস্থ্য নিয়ে অপপ্রচার, বিদেশী কূটনৈতিকদের সাহায্য প্রার্থনা ও আন্দোলন কর্মসূচি কোনোটাতেই যখন আশার আলো দেখতে পারেনি বিএনপি, তখন মির্জা ফখরুলসহ দলের অন্যান্য সিনিয়র নেতারা মনে করছেন এ মুহূর্তে জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরেই দলের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা উচিত। কিন্তু দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়াপারসন তারেক রহমান মির্জা ফখরুলের এমন সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন বৈঠকে। তার মতে খালেদা জিয়ার কারামুক্তি ব্যাতিত বিএনপির নির্বাচনে যাওয়ার কোনো মানে নেই, কেননা তার মতে খালেদাকে ছাড়া নির্বাচনে গেলে বিএনপির জয়লাভ করবার সম্ভাবনা নেই। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের উদাহরণ টেনে তারেককে বলতে শোনা যায়, চেয়ারপারসনকে ছাড়া নির্বাচনে গেলে এমন অবস্থাই হবে।

লন্ডন নেতাকর্মীদের উপিস্থিতিতে ফখরুল-তারেকের এ বৈঠক প্রায় দেড় ঘন্টা ধরে চলে। ফখরুল তারেককে নির্বাচন নিয়ে দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ঠিক করতে অনুরোধ করলেও, তারেক তার সিদ্ধান্তে অনড় ছিল বলে জানা যায়।