আটঘরিয়ায় প্রাচীন মূল্যবান সরকারী গাছ কাটলেন আওয়ামী লীগ নেতা!

0
Jpeg

বার্তা সংস্থা পিপ, পাবনা : পাবনার আটঘরিয়ায় ৫০-৬০ বছরের পুরানো গাছ কাটলেন আটঘরিয়ার ২নং চাঁদভা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও আটঘরিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম মুকুল।

ঐ গাছের আনুমানিক মূল্য ১৫/১৬ লক্ষ টাকা।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির দাবি, বিদ্যালয়ের ভবন নির্মানের স্বার্থে এ গাছ কাটা হয়েছে। এদিকে গাছ কাটার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেন আটঘরিয়া বাজারে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলার ২নং চাঁদভা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম মুকুল ও প্রধান শিক্ষিক মোছা: তাহমিনা খাতুন রেবা বড় অংকের টাকা আত্মসাত করার অসৎ উদ্দেশ্যে ৫০-৬০ বছরের পুরনো মূল্যবাদ কড়ই, মেহগনি ও কাঁঠাল গাছসহ মোট ৮টি গাছ অবৈধভাবে কেটে বিক্রি করে দেয়।

বিষয়টি এলাকাবাসীর নজরে এলে আজ বুধবার দুপুরে স্থানীয়রা আটঘরিয়া বাজারে বিক্ষোভ-মিছিল বের করে। মিছিলটি আটঘরিয়া বাজার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

পরে তারা পথ সভায় গাছ কাটার সাথে জড়িতদের শাস্তির দাবী জানান।

চাঁদভা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাহমিনা সুলতানা রেবা চিকিৎসার জন্য ভারতে থাকায় তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক বিদ্যলয়ের সহকারী শিক্ষক বলেন, স্কুলের প্রয়োজনেই এবং নতুন ভবনের নির্মান কাজে এই গাছ কাটা হয়েছে।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আহসান উল্লাহ বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটি , শিক্ষা কর্মকর্তার যোগসাজশে স্কুলের মূল্যবান ৮টি গাছ কাটা হয়েছে। এ গাছের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকা।

চাঁদভা সরকারী প্রাথমিকি বিদ্যালয়ের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম মুকুল গাছ কাটার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের জন্য ৬৮ লক্ষ টাকা এবং বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের জন্য ৪৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে।

তাই বিদ্যালয়ের শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, শিক্ষা অফিস এর সাথে আলোচনা করেই ভবন নির্মাণের স্বার্থে গাছ কাটা হয়েছে।

এ ব্যাপারে আটঘরিয়া উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সিরাজুম মুনিরা বলেন, গাছ কাটার বিষয়টি আমার জানা নেই, তবে আমি শুনেছি গাছ কাটা হয়েছে। তবে আগামিকাল তিনি পরিদর্শন করে বিস্তারিত জানাবেন বলে সাংবাদিকদের জানান।

আটঘরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র শহিদুল ইসলাম রতন বলেন, স্কুলের প্রায় ৫০ থেকে ৬০ বছরের পুরাণ কড়ই এবং মেহগুনি গাছ কেটে বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট সহ ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি সাধিত করেছে।

গাছ কাটার সংঙ্গে জরিতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

এ ব্যাপারে আটঘরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আকরাম আলী বলেন, বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মানের স্বার্থে গাছ কাটা যেতে পারে, তবে সরকারী নিয়মের মধ্যে গাছ কাটতে হবে। তবে গাছ কাটা চলাকালিন সময়ে আমি খবর পেয়ে গাছ কাটা বন্ধ করে দিয়েছি।